
মাদারীপুরে আরএফসি’র খাবার খেয়ে অসুস্থ ৩৫ জন, অভিযানে মিললো পচা খাবার ও গোপন কক্ষ
ষ্টাফ রিপোর্টার মাদারীপুর :
মাদারীপুর শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত
আধুনিক ডেকোরেশনের আরএফসি রেষ্টুরেন্ট। এই রেষ্টুরেন্টে মুখরোচক খাবারের আড়ালে চলছিল কী? এই আরএফসির খাবার খেয়ে নারী-শিশুসহ অন্তত ৩৫ জন হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর প্রশাসনের টনক নড়ে। চলে অভিযান। অভিযানে বেরিয়ে আসে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। পচা-বাসি খাবার, ক্ষতিকর রং, নিম্নমানের তেল, অস্বাস্থ্যকর রান্নাঘর এমনকি রহস্যজনক গোপন কক্ষও মিলেছে।
মাদারীপুর শহরের পুরানবাজার এলাকার আরএফসি রেস্টুরেন্টে গ্রিল ও নানরুটি খাওয়ার পর অসুস্থ হয়ে পড়েন একের পর এক গ্রাহক। বমি, ডায়রিয়া ও তীব্র পেটব্যথা নিয়ে শুক্রবার রাত থেকে শনিবার দুপুর পর্যন্ত মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে ভর্তি হন অন্তত ৩৫ জন। তাদের মধ্যে দুইজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় পাঠানো হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।
ভুক্তভোগী আলমাস অভিযোগ করেন আমার পরিবারের চারজন, আরও পাঁচজন একসঙ্গে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। খবর ছড়িয়ে পড়লে পুড়ো জেলাজুড়ে সৃষ্টি হয় তীব্র উদ্বেগ ও ক্ষোভ।
ভুক্তভোগীসহ স্বজনদের।
পরিস্থিতি আমলে নিয়ে মাঠে নামে জেলা প্রশাসন। সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াদিয়া শাবাবের নির্দেশনায় পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালত। আদালতের অভিযানে উঠে আসে রান্নাঘরে ছিল নোংরা পরিবেশ। একই ফ্রিজে রাখা হয়েছে কাঁচা মাংস ও রান্না করা খাবার। উদ্ধার করা হয় বাসি ও পচা খাদ্যসামগ্রী। খাবারে ব্যবহার করা হচ্ছিল মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর নন-ফুড গ্রেড রং এবং নিম্নমানের তেল। এছারাও প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসা করার প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস না পাওয়ার কারণে নিরাপদ খাদ্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৩ এর ৩৯ হলপ অনুযায়ী ১লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসকের ভ্রাম্যমান আদালতের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আল মঈন জানান, রেস্টুরেন্টের ভেতরে একাধিক ছোট ছোট গোপন কক্ষ আছে, যা রেস্টুরেন্টে রাখার কোনো বৈধতা নেই। এসব কক্ষকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ ছিল।
অভিযান চলাকালে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াদিয়া শাবাব মালিকপক্ষকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গোপন কক্ষগুলো অপসারণ না করলে প্রতিষ্ঠানটি সিলগালা করে দেওয়া হবে।
এদিকে অভিযানের পুরো সময় রেস্টুরেন্টের মালিক রাহাত ব্যাপারীকে ঘটনাস্থলে দেখা যায়নি। প্রশাসনের সঙ্গে তিনি কোনো ধরনের কথা বলেননি বলেও জানিয়েছেন উপস্থিত কর্মকর্তারা। ফলে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে—এত বড় ঘটনার পরও কি মূল দায়ী ব্যক্তি আইনের আওতার বাইরে থেকে যাবেন?তবে জেলা প্রশাসকের ভ্রাম্যমাণ আদালতের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আল মঈন সিকদার বলেন, আরো বলেন, খাদ্য বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত ভুক্তভোগীরা যদি আইনগতভাবে অভিযোগ বা মামলা দায়ের করেন, তাহলে তদন্ত সাপেক্ষে আরএফসি রেস্টুরেন্টের মালিকপক্ষের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুদের মধ্যে ফাস্টফুড ও গ্রিলজাতীয় খাবারের প্রতি ঝোঁক বাড়লেও এসব খাবারের গুণগত মান নিশ্চিত না হলে তা মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে। আর এ ঘটনায় সেটিই যেন প্রমাণিত হলো।
এসআর শফিক স্বপন
মাদারীপুর প্রতিনিধি
০১৭১৩৫৬৮৩৮৫