
এনসিপি’র লং মার্চে গাড়ী ব্যবহার করে মাদারীপুর জেলা এনপিপির আহবায়ক হলেন তুষার ভুইয়া
কাজল খান :
এনসিপি’র লং মার্চে গাড়ী ব্যবহার করে মাদারীপুর জেলা এনপিপির আহবায়ক হলেন মনিরুল ইসলাম তুষার ভুইয়া।
জানাযায়,এনপিপির লং মার্চে নাসির উদ্দীন পাটোয়ারী ব্যবহার করা গাড়ীর মালিক মনিরুল ইসলাম তুষার ভুইয়াকে করা হয়েছে মাদারীপুর জেলা এনপিপির আহবায়ক । লংমার্চে ব্যবহার করা গাড়িকে কেন্দ্র করে আলোচনায় তোলপাড় হওয়ার পর এবার মনিরুল ইসলাম তুষার ভূঁইয়াকে আহ্বায়ক করে মাদারীপুরে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে নতুন করে আলোচনা।
<span;>যদিও লং মার্চে ব্যবহার করা গাড়িটির মালিকানা সম্পর্কে জানতে চাইলে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘এই গাড়ির মালিকের কথা জানলে আপনারা গাড়ি ভেঙে ফেলবেন।’ এরপর গাড়িটির রেজিস্ট্রেশন নম্বর নিয়ে শুরু হয় নানা আলোচনা ও যাচাই-বাছাই।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথ্য অনুযায়ী, ওই গাড়ির সাথে তুষার ভূঁইয়ার নামের যোগসূত্র রয়েছে বলে দাবি করা হয়। বিষয়টি নিয়ে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর সাথে তুষার ভূঁইয়ার সম্পর্ক এবং লংমার্চে গাড়িটি ব্যবহারের কারণ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন অনেকে। তবে গাড়িটির মালিকানা ও ব্যবহারের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত কোনো নথি বা বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
মনিরুল ইসলাম তুষার ভূঁইয়া এর আগে বিএনপির রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলেন বলে স্থানীয় রাজনৈতিক সূত্রে জানা যায়। পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে তিনি দলটির স্থানীয় রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে ওঠেন। ২০১৯ সালে আওয়ামী লীগের সমর্থনে মাদারীপুর সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন তিনি।
তৎকালীন মাদারীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ও সাবেক নৌপরিবহনমন্ত্রী শাহজাহান খানের ঘনিষ্ঠজন হিসেবেও স্থানীয় রাজনীতিতে তার পরিচিতি ছিল।
৫ আগস্টের পর তুষার ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হওয়ার কথাও স্থানীয়ভাবে জানা গেছে। একই সময়ে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তার রাজনৈতিক উত্থান ও প্রভাবশালী নেতাদের সাথে ঘনিষ্ঠতা নিয়েও নানা আলোচনা রয়েছে।
স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে তুষার ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে প্রভাবশালী নেতাদের সাথে ঘনিষ্ঠতার সুযোগ কাজে লাগিয়ে বিপুল অর্থ-সম্পদ অর্জনের অভিযোগও রয়েছে। স্থানীয়দের কেউ কেউ দাবি করেন, সাবেক নৌপরিবহনমন্ত্রী শাহজাহান খান ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিমের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতাকে কাজে লাগিয়ে তিনি বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে নির্ভরযোগ্য নথি বা স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলোকে অভিযোগ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
এরই মধ্যে গাড়ি বিতর্কের রেশ কাটতে না কাটতেই তুষার ভূঁইয়াকে মাদারীপুর জেলা এনসিপির আহ্বায়ক করে আহ্বায়ক কমিটি গঠনের খবর প্রকাশ্যে আসে। ফলে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে-আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ক্ষমতাসীন দলের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত থাকা একজন ব্যক্তি কীভাবে নতুন রাজনৈতিক শক্তি এনসিপির জেলা নেতৃত্বে এলেন?
বিশেষ করে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর সাথে গাড়ি ব্যবহারকে কেন্দ্র করে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, তার পরপরই তুষার ভূঁইয়ার এনসিপির জেলা আহ্বায়ক হওয়ার বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। কেউ কেউ এটিকে রাজনৈতিক পুনর্বাসনের প্রশ্ন হিসেবে দেখছেন। আবার অনেকে বলছেন, অতীত রাজনৈতিক পরিচয় ও বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থান-দুই বিষয়ই দলীয় সিদ্ধান্তের আলোকে মূল্যায়ন করা উচিত।
এদিকে আওয়ামী লীগ পুনর্বাসনের অভিযোগ প্রসঙ্গে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর আগের একটি বক্তব্যও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে সামনে এসেছে। তিনি বলেছিলেন, আওয়ামী লীগ পুনর্বাসনের দায়িত্ব যদি তাদের হাতে থাকে, তাহলে এর ফয়সালা রাজপথে হবে এবং ‘পিঠের চামড়া থাকবে না’।
তবে তুষার ভূঁইয়াকে জেলা আহ্বায়ক করার সিদ্ধান্তের বিষয়ে এনসিপির স্থানীয় নেতৃত্বের ব্যাখ্যা এবং তার বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থান সম্পর্কে বিস্তারিত বক্তব্য জানা যায়নি। একইভাবে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর সাথে তার সম্পর্ক, লংমার্চে ব্যবহৃত গাড়ির মালিকানা এবং গাড়িটি ব্যবহারের কারণ নিয়েও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ফলে তুষার ভূঁইয়ার অতীত রাজনৈতিক পরিচয়, আওয়ামী লীগ আমলে তার উত্থান, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর সাথে গাড়ি বিতর্ক এবং সর্বশেষ এনসিপির জেলা নেতৃত্বে তার অন্তর্ভুক্তি-সব মিলিয়ে মাদারীপুরের রাজনীতিতে নতুন করে তৈরি হয়েছে আলোচনা। বিষয়গুলো নিয়ে স্বচ্ছ ব্যাখ্যার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের একাংশ।