
ষ্টাফ রিপোর্টার:
মাদারীপুরে এক ইউএনও’র গাড়ি চালকের বিরুদ্ধে অসহায়দের ঘর পাইয়ে দিতে ঘুষ গ্রহণসহ বিস্তর অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী এক নারীর লিখিত অভিযোগের পর তদন্ত শুরু করেছে জেলা প্রশাসন। বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমলোচনা শুরু হয়েছে। তদন্তপূর্বক দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন সচেতন মহল।
অভিযোগপত্র সূত্রে জানা যায়, রাজৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার গাড়ি চালক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন রাজৈরের আলমদস্তা গ্রামের আরিফ কাজী। সেই সুবাধে শাখারপাড় গ্রামের পাঁচজন নারীকে বিনামূল্যে সরকার প্রদেয় ঘর দেয়ার কথা বলে আড়াই লাখ টাকা নেন তিনি। আট মাস আগে টাকা নিলেও কাউকেও ঘর দিতে পারেনি আরিফ। পাওনা টাকা ফেরত চাইলে বিভিন্ন সময় ভয়ভীতি দেখানো হয় বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের। এছাড়াও ইশিবপুর ইউনিয়নে অবৈধ ড্রেজার ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে প্রতিদিন ২৫ হাজার টাকা করে ঘুষ নেন। পরে ড্রেজার দিয়ে নদ-নদীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনে সহায়তা করেন আরিফ। বিষয়টি নিয়ে গত ১৩ জুলাই মাদারীপুরের জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত দেন বিথী আক্তার নামে এক নারী। পরে অভিযোগপত্রটি আমলে নিয়ে জেলা প্রশাসক মর্জিণা আক্তার একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে বলেন। এরপর তদন্ত শুরু করে জেলা প্রশাসন। এরইমধ্যে একনারীর কাছ থেকে টাকা নেয়ার অভিযোগের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে। যা নিয়ে শুরু হয় জেলাজুড়ে আলোচনা-সমলোচনা।
রাজৈরের শাখারপাড় গ্রামের বাসিন্দা ভুক্তভোগী নারী বিথী আক্তার বলেন, ‘আমি অসহায় মানুষ। আমাকে ঘর দেয়ার কথা বলে ৫০ হাজার টাকা নেন আরিফ। আরো চারজনের কাছ থেকে দুই লাখ টাকা নিয়েছেন তিনি। এছাড়া ড্রেজার ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে প্রতিদিন হাজার হাজার টাকা নেন তিনি। আরিফ দীর্ঘদিন ধরে এমন অন্যায় কাজের সাথে জড়িত। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।’
অভিযুক্ত আরিফ কাজী বলেন, ‘আমি কাউকে ঘর দেয়ার জন্য টাকা নেয়নি। এমনকি ড্রেজার ব্যবসায়ীদের কাছ থেকেও কোনো ঘুষ গ্রহণ করিনি। আমার নামে ব্যক্তিগত আক্রমনে এমন মিথ্যা অভিযোগ দেয়া হয়েছে। আমি ন্যায় বিচার চাই।’
মাদারীপুর সচেতন নাগরিক কমিটি’র (টিআইবি) সভাপতি খান মোহাম্মদ শহীদ বলেন, ‘একজন গাড়ি চালকের নামে এমন দুর্নীতির অভিযোগ দুঃখজনক। এটি প্রমাণ হলে দৃশ্যমান বিচার হওয়া উচিৎ। যা দেখে অন্য দুর্নীতিবাজরা ভয় পায়। পরবর্তীকে কেউ এমন কাজ আর না করতে পারে।’
মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক মর্জিনা আক্তার বলেন, ‘রাজৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার গাড়ি চালকের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্ত শুরু করেছে জেলা প্রশাসন। বিষয়টি একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। দোষ পাওয়া গেছে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
প্রসঙ্গত, রাজৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহফুজুল হক সম্প্রতি বদলি হয়ে অন্যত্র চলে যান। তিনি থাকাকালীন সময়ে ঘটে এই ঘটনা। পরে অভিযোগ দেয়া হয় জেলা প্রশাসকের কাছে। গত ২১ জুলাই ইউএনও হিসেবে রাজৈর উপজেলায় যোগদান করেন রোকসানা খায়রুণ নেছা।