
একুশ দর্পণ ডেক্স:
আজ ১২ রবিউল আউয়াল। বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্ম ও ওফাত দিবস। ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও যথাযথ মর্যাদায় দিনটি পালন করছেন বিশ্বের মুসলিম সম্প্রদায়। মহানবী (সা.)-এর জীবন, কর্ম ও আদর্শ স্মরণ করে ভ্রাতৃত্ব, মানবতা ও কল্যাণের বার্তা ছড়িয়ে দিতে দেশে দেশে নানা কর্মসূচি আয়োজন করা হয়েছে।
প্রায় দেড় হাজার বছর আগে আরবের মক্কা নগরীর সম্ভ্রান্ত কুরাইশ বংশে মা আমিনার কোল আলোকিত করে জন্মগ্রহণ করেন হজরত মুহাম্মদ (সা.)। ইসলামের সর্বশেষ নবী ও রাসুল হিসেবে তিনি মানবজাতিকে সত্য, ন্যায়, শান্তি ও কল্যাণের পথে আহ্বান জানান। ৬৩২ খ্রিষ্টাব্দে ১২ রবিউল আউয়াল ৬৩ বছর বয়সে তিনি ওফাত লাভ করেন।
মহানবী (সা.)-এর আবির্ভাবের আগে আরব সমাজ নানা কুসংস্কার, অনাচার ও বিশৃঙ্খলায় নিমজ্জিত ছিল। মানুষ আল্লাহর একত্ববাদ থেকে দূরে সরে গিয়ে নানা অপকর্মে জড়িয়ে পড়েছিল। সামাজিক ও নৈতিক অবক্ষয়ের সেই সময়কে ইতিহাসে ‘আইয়ামে জাহেলিয়াত’ বা অজ্ঞতার যুগ হিসেবে অভিহিত করা হয়। এমন এক অন্ধকার সময়ে মহানবী (সা.)-এর আগমন মানবতার জন্য নতুন আলোর দিশা নিয়ে আসে।
শৈশব থেকেই মহানবী (সা.) ছিলেন সত্যবাদী, বিশ্বস্ত ও উন্নত চরিত্রের অধিকারী। নির্জনতা ও আত্মশুদ্ধির জন্য তিনি মক্কার হেরা পর্বতের গুহায় ধ্যান ও ইবাদতে সময় কাটাতেন। ২৫ বছর বয়সে তিনি হজরত খাদিজা (রা.)-এর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। ৪০ বছর বয়সে হেরা গুহায় তাঁর ওপর প্রথম ওহি নাজিল হয় এবং তিনি নবুয়ত লাভ করেন। এরপর তিনি মানুষকে এক আল্লাহর ইবাদত, ন্যায়, সাম্য, মানবিকতা ও শান্তির পথে আহ্বান জানান।