1. bditwork247@gmail.com : Zahid Hassan : Zahid Hassan
  2. ekushdarpon@gmail.com : ekushdarpon :
২৯শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ| ১৪ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ| বর্ষাকাল| বুধবার| সকাল ১০:০৪|
শিরোনামঃ

দাদা-দাদির কবরের পাশেই চিরনিদ্রায় শায়িত মেধাবী শিক্ষার্থী বৃষ্টি

Reporter Name
  • Update Time : শনিবার, ৯ মে, ২০২৬
  • ২৬৭ Time View

স্টাফ রিপোর্টার

উচ্চতর ড্রিগী অর্জণ করতে গিয়ে মুহুর্তেই নিভে গেল জীবনের আলো। তুচ্ছ ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রে খুন হলো মেধাবী শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি। খন্ডিত মরদেহ গ্রামের বাড়ি মাদারীপুরে নিয়ে আসলে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন স্বজন ও পাড়াপ্রতিবেশি। পরে জানাজা শেষে দাদা-দাদির কবরের পাশেই চিরনিদ্রায় শায়িত হলো বৃষ্টি। এমন হত্যাকান্ড কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না কেউ। খুনির কঠোর বিচার দাবী তাদের। পাশাপাশি সরকারকে নিহতের পরিবারের পাশে থাকতে অনুরোধ করেছেন স্বজনরা।

জুলাই মাসে দেশে ফেরার কথা ছিল যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জণ করতে যাওয়া মেধাবী শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির। কিন্তু তার আগেই ঠিকই ফিরলো, তবে লাশ হয়ে। এমন মৃত্যু কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না স্বজনরা। পরিবারে শোকের মাতম।

শনিবার সকালে রাজধানী ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে পৌঁছায় বৃষ্টির খন্ডিত মরদেহ। দুপুর সোয়া একটার দিকে লাশটি গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। বৃষ্টিকে শেষবারের মতো এক নজর দেখতে ভীড় করেন আত্মীয়-স্বজন ও পাড়াপ্রতিবেশি। ছুটে আসেন বৃষ্টির ছোটবেলার খেলার সাথীরাও। সেখানে তৈরি হয় এক শোকাবহ পরিবেশ।

স্বজনরা জানায়, ৭ মাস আগে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়ালেখা শেষে উচ্চতর ডিগ্রির জন্য পাড়ি জমান আমেরিকায়। ফ্লোরিডা ইউনিভার্সিটিতে সুযোগ পাওয়ার সুবাধে সু-সম্পর্ক গড়ে ওঠে সহপাঠি জামিল আহম্মেদ লিমনের সাথে। সেখানে লিমনের সাথে এক মার্কিন নাগরিক রুমমেটের দ্বন্দ্বের জেরে গত ১৬ এপ্রিল লিমন ও বৃষ্টিকে ভার্সিটি ক্যাম্পাস থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে খুন করা হয়। এর ৮ দিন পর লিমনের খন্ডিত মরদেহ উদ্ধার করে যুক্তরাষ্ট্রের পুলিশ। পরে ৩০ এপ্রিল উদ্ধার হয় বৃষ্টিরও খন্ডিত লাশ।

উচ্চতর ড্রিগ্রী অর্জণ করতে গিয়ে খুন হওয়া বৃষ্টির স্বপ্ন শেষ হলো নিমিষেই। হত্যাকান্ডের ঘটনায় হিশাম নামে যুক্তরাষ্ট্রের এক নাগরিক আটক করে দেশটির পুলিশ। ঘটনার বিচার দাবী করেন নিহতের পরিবার ও স্বজনরা।

বৃষ্টির ফুফাতো বোন জাবিন মরিয়ম বলেন, সারাক্ষণ হাসিখুশিতে থাকা মেয়েটি এভাবে খুন হবে, তাও যুক্তরাষ্ট্রের মত দেশে, এটা মেনে নেয়া কঠিন। এই হত্যাকান্ডের বিচার চাই।

নিহত বৃষ্টির বাবা জহির উদ্দিন আকন জানান, এ শোক কিছুতেই মেনে নিতে পারছি না। যেখানে আনন্দঘন পরিবেশের দেশে ফেরার কথা বৃষ্টির, সেখানে লাশ হয়ে ফিরল। মনকে সান্তনা দিতে পারছি না। আমেরিকার মতো দেশে এভাবে খুন হবে সেটা কল্পনাও করতে পারিনি। এমন হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক বিচার হওয়া উচিত।

মাদারীপুর সদর উপজেলার চর গোবিন্দপুর গ্রামে জহির উদ্দিন আকনের একমাত্র মেয়ে নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি। বাদ আসর জানাজার নামাজ শেষে দাদা-দাদির কবরের পাশে দাফন করা হয় বৃষ্টির মরদেহ।
মাদারীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াদিবা শাবার এ মৃত্যুদন্ডকে দেশের ও জাতীর মেধা কেড়ে নাওয়ার শামিল বলে দ্রুত হত্যার রহস্য উদঘাটন করে শাস্তি ব্রব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2025
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ BDITWork