
যেই ক্ষমতায় যায় সেই হাসিনা হইতে চায়
-আল্লামা মামুনুল হক
মহসিন সরদার ,শরীয়তপুর প্রতিনিধি :
বাংলাদেশে যেই ক্ষমতায় যায় সেই হাসিনা হইতে চায় বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর আল্লামা মামুনুল হক।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) শরীয়তপুর পৌরসভা অডিটোরিয়ামের সামনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস জেলা শাখার উদ্দোগে আয়োজিত এক নাগরিল সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন তিনি।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে একটি প্রবাদ রয়েছে 'যে যায় লংকায় সেই হয় হনুমান'। তেমনি যেই ক্ষমতায় যায় সেই হাসিনা হইতে চায়। ক্ষমতায় গেলেই মানুষের মধ্যে একটা হাসিনা হওয়ার খায়েস জেগে ওঠে। আর ক্ষমতা থেকে বাইরে গেলে বিপ্লবী সাজতে মনে চায়।
তিনি আরো বলেন, সব ক্ষমতা এক প্রধানমন্ত্রীর কাছে কুক্ষিগত, রাষ্ট্রপতির কাছে কোন ক্ষমতা নেই তিনি একজন পুতুল, প্রধান বিচারপতিরও একই অবস্থা। সারা বাংলাদেশের সব ক্ষমতা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর পায়ের কাছে ফালানো হয়েছে। এমন ক্ষমতা যদি একটি কাঠের পুতুলকেও দেওয়া হয় তাহলে ২ বছর পরে পুতুলটাও একটা হাসিনা হবে। আর এজন্যই বাংলাদেশের ক্ষমতার মসনদে যে যায় সেই হাসিনা হয়ে যায়। আমরা চাইনা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সন্তান তারেক জিয়া নতুন করে শেখ হাসিনায় পরিণত হোক। এজন্যই আমরা বলি সংবিধান সংস্কার করেন।
মামুনুল হক বলেন, আজকে এই সংস্কারের অভাবে দলীয়করন হয়, দেশের মধ্যে দুর্নীতি হয়, অব্যবস্থাপনা হয়। যার কারণে আজ তেল গ্যাস বিদ্যুৎ সার সংকটসহ গোটা দেশ পরিচালনায় অরাজকতা সৃষ্টি হয়েছে।
নতুন বাংলাদেশে কোরআন সুন্নাহ বিরোধী কোন আইন তৈরী করবেন না এটা বিএনপির অঙ্গীকার ছিল। আর ক্ষমতায় গিয়ে সেই অঙ্গীকার তারা ভঙ্গ করেছেন। কোরআন সুন্নাহ বিরোধী সম্পত্তি ট্রান্সফারের যে আইন আপনারা তৈরি করেছেন এদেশের আলেম সমাজরা সে আইন প্রত্যাখ্যান করেছে। কুরআন সুন্নাহ বিরোধী কোন আইন বাংলাদেশে বাস্তবায়ন করতে দেব না ইনশাআল্লাহ।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস শরীয়তপুর জেলা শাখার সভাপতি মাওলানা সাব্বির আহমেদ উসমানীর সভাপতিত্বে সমাবেশে সঞ্চালনা করেন জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক দবির হোসেন শেখ। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক। প্রধান আলোচক ছিলেন সংগঠনটির মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দিন আহমদ।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ-২ আসনের সংসদ সদস্য মুফতি মুহাম্মাদুল্লাহ, মাদারীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ উদ্দিন আহমেদ হানজালা, খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আজিজুর রহমান হেলাল এবং কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য মাওলানা মুফতি নুর হোসেন নূরানী।
এ ছাড়া সমাবেশে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী শরীয়তপুর জেলা শাখার আমির অধ্যক্ষ আব্দুর রব হাসেমী, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সাবেক আহ্বায়ক ইমরান আল নাজিরসহ ১১ দলীয় ঐক্যের বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
সমাবেশে বক্তারা সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের নিত্যদিনের জীবনযাত্রাকে স্বস্তিদায়ক করতে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহের সংকট সমাধান এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানান তারা। গণ সমাবেশের শেষ মুহূর্তে শরীয়তপুর পৌরসভায় খেলাফত মজলিসের মেয়র প্রার্থী হিসেবে, পৌরসভা খেলাফত মজলিসের সাধারণ সম্পাদক সুলতান মাহমুদ খানকে মেয়র প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেন।