আন্তর্জাতিক ডেক্স:
উত্তেজনা, সহিংসতা ও রাজনৈতিক সংঘর্ষের মধ্যে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে সরকার গঠনের লড়াইয়ে বড় ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। গতকাল সকালে ফল ঘোষণা শুরুর কিছুক্ষণের মধ্যে স্পষ্ট হয়ে যায় ২০১১ সালে রাজ্যের ক্ষমতায় বসা তৃণমূল কংগ্রেসের শাসন অবসান হতে যাচ্ছে। বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন দলটির পরাজয়ের মধ্য দিয়ে রাজ্যে হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির উত্থান ঘটতে যাচ্ছে। জয় শ্রীরাম স্লোগানে উত্তর ভারতে একের পর এক রাজ্যের ক্ষমতায় আসা বিজেপি এবার পশ্চিমবঙ্গেও শক্ত অবস্থান গড়ে তুলতে সক্ষম হতে যাচ্ছে।
২৯৪ আসনের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ১৪৮ আসনে জয়, আর সর্বশেষ প্রাপ্ত প্রবণতা অনুযায়ী, বিজেপি ১৮০ থেকে ২০২ আসনের মধ্যে এগিয়ে রয়েছে। অন্যদিকে ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেস (টিএমসি)
১০০-এর নিচে থেকে ৯৪ বা ৮৫ আসনে এগিয়ে।
গত ২৩ ও ২৯ এপ্রিল দুই দফায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হলেও দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা কেন্দ্রে নির্বাচনী অনিয়ম ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ভঙ্গের অভিযোগে পুরো কেন্দ্রের ভোট বাতিল করেছে নির্বাচন কমিশন। ওই কেন্দ্রে পুনরায় ভোটগ্রহণ হবে ২১ মে এবং গণনা হবে ২৪ মে। ফলে সোমবার ফলতা বাদে বাকি কেন্দ্রগুলোর ভোটগণনা চলছে।
এবারের নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি নজর রয়েছে ভবানীপুর কেন্দ্রের দিকে। এ আসনে মুখোমুখি হয়েছেন তৃণমূল নেত্রী ও বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী। প্রথম দিকে শুভেন্দু এগিয়ে থাকলেও কয়েক দফা গণনার পর মমতা এগিয়ে যান। তবে প্রতি রাউন্ডে ব্যবধান কমিয়ে আনছেন শুভেন্দু।
শেষ পর্যন্ত ভবানীপুরে নিজের ঘরেই হেরে গেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পাঁচ বছর আগে নন্দীগ্রামে শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে লড়তে গিয়েছিলেন মমতা। পরাস্ত হয়েছিলেন। এ বার মমতারই আসনে মমতার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নেমে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছিলেন বিরোধী দলনেতা। তাতেও পরাস্ত হলেন তৃণমূলনেত্রী। অন্য কোনো আসনে প্রার্থী না হওয়ায় এবার মমতার বিধানসভায় যাওয়ার রাস্তা আপাতত বন্ধ হয়ে গেল।
ভোটগণনার মধ্যেই কলকাতার সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুল, যেখানে ভবানীপুর কেন্দ্রের ভোটগণনা চলছে, সেখানে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ উঠেছে, তৃণমূলের অস্থায়ী ক্যাম্পে বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা হামলা চালিয়েছে। তৃণমূল কর্মীদের বসার জায়গা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়, ছিঁড়ে ফেলা হয় মমতার ফেস্টুন ও ব্যানার।
পরে তৃণমূল কর্মীরা জগদীশচন্দ্র বসু কলেজে আশ্রয় নিলে, সেখানেও লাঠি হাতে বিজেপি সমর্থকদের উপস্থিতি দেখা যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ হস্তক্ষেপ করে। নবান্নের বাইরেও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে, সেখানে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়।